সারাদেশ

সাঁতার জেনেও বাঁচল না প্রাণ: সিদ্ধিরগঞ্জে লেকে ডুবে একই পরিবারের ৩ জনের মৃত্যু

প্রিন্ট
সাঁতার জেনেও বাঁচল না প্রাণ: সিদ্ধিরগঞ্জে লেকে ডুবে একই পরিবারের ৩ জনের মৃত্যু

প্রকাশিত : ১৩ জুন ২০২৬, রাত ৯:৪৪

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ডিএনডি লেকে গোসল করতে নেমে একই পরিবারের তিনজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১৩ জুন) বিকেলে দক্ষিণ কদমতলীর নাভানা ভূঁইয়া সিটি সংলগ্ন কাশেম পাড়া এলাকায় এ হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন, গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী থানার মনাগ গ্রামের দেলোয়ারের ছেলে মো. রাশেদুজ্জামান (২২), তার শ্যালক মো. গালিব (১৮) ও শ্যালিকা সুরাইয়া (১২)। গালিব ও সুরাইয়া নড়াইলের কালিয়া থানার রঘুনাথপুর গ্রামের আকরামের সন্তান। তারা সবাই সিদ্ধিরগঞ্জের দক্ষিণ কদমতলী এলাকার অ্যাডভোকেট জালালের বাড়ির ভাড়াটিয়া ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নিহত তিনজনই বেশ ভালো সাঁতার জানতেন। বিকেলে তারা লেকে নেমে মনের আনন্দে সাঁতার কাটছিলেন। একপর্যায়ে লেকের ওপর নির্মিত একটি ঘাটের নিচ দিয়ে ডুব দিয়ে তারা একপাশ থেকে অন্যপাশে চলে যান। কিন্তু বিপত্তি ঘটে ফেরার পথে। একইভাবে ডুব দিয়ে ওপারে আসার চেষ্টা করলেও প্রায় আধা ঘণ্টাতেও তাদের কেউ আর পানির ওপরে ভেসে ওঠেননি। চোখের পলকে তিনটি প্রাণ হারিয়ে যাওয়ায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।

খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ ও আদমজী ইপিজেড ফায়ার সার্ভিস। পরে নারায়ণগঞ্জ নদী ফায়ার স্টেশনের একটি ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযান শুরু করে। বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত টানা তল্লাশি চালিয়ে প্রথমে ভগ্নিপতি রাশেদুজ্জামান ও শ্যালক গালিবের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর প্রায় এক ঘণ্টা পর উদ্ধার হয় শিশু সুরাইয়ার লাশ।

আদমজী ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন মাস্টার মিরন মিয়া জানান, খবর পেয়ে ডুবুরি দল দ্রুত কাজ শুরু করে। বিকেল ৫টার দিকে দুজনের এবং ৬টার দিকে অপরজনের লাশ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পানির নিচে কোনো কারণে আটকে গিয়ে দম বন্ধ হয়ে তাদের মৃত্যু হয়েছে।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ এমদাদুল হক বলেন, খবর পেয়েই পুলিশ টিম নিয়ে আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছাই। শ্যালক-শ্যালিকাকে নিয়ে ভগ্নিপতি রাশেদুজ্জামান লেকে গোসল করতে নেমেছিলেন। সাঁতার জানা সত্ত্বেও এমন দুর্ঘটনা কীভাবে ঘটল তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।