বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা পরিষদ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানে দুই বোনের প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকার আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়।
জানা গেছে, দুই বোনের বাবা মো. কামাল হোসেন দীর্ঘদিন কায়িক শ্রমের মাধ্যমে পরিবারের জীবিকা নির্বাহ করতেন। তবে ২০২১ সালে বরিশালে নির্মাণকাজের সময় গুরুতর দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার পর তিনি প্রায় কর্মক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন। এতে চার সন্তান নিয়ে পরিবারটি চরম আর্থিক সংকটে পড়ে।
সংকটের মধ্যেও থেমে থাকেননি দুই বোন। পরিবারের হাল ধরেন তাদের মা। সীমিত সামর্থ্য আর কঠিন বাস্তবতার সঙ্গে লড়াই করেই মেয়েদের লেখাপড়া চালিয়ে যেতে উৎসাহ দেন তিনি।
অদম্য চেষ্টা ও মেধার স্বাক্ষর রেখে ফাহিমা আক্তার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পান। অন্যদিকে ফারজানা আক্তার গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে উচ্চশিক্ষার পথে এগিয়ে যান।
তবে সংসারের ব্যয়, বাবার চিকিৎসা এবং দুই মেয়ের পড়াশোনার খরচ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছিল পরিবারটিকে। বিষয়টি নকলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা পরিষদ সদস্য জাহাঙ্গীর আলমের নজরে এলে তারা সহযোগিতার উদ্যোগ নেন। পরে তাদের সুপারিশের ভিত্তিতে জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়।
চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে জেলা পরিষদের প্রশাসক এবিএম মামুনুর রশিদ পলাশ বলেন, ফারজানা ও ফাহিমা শুধু তাদের পরিবারের নয়, পুরো শেরপুর জেলার গর্ব। প্রতিকূলতা জয় করে তারা যে উদাহরণ তৈরি করেছে, তা অন্য শিক্ষার্থীদেরও অনুপ্রাণিত করবে।
জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা দীপঙ্কর রায় বলেন, শিক্ষা ও মেধা বিকাশে এমন শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানো সমাজের দায়িত্ব। দুই বোনের সাফল্য ভবিষ্যতে আরও অনেক মেয়েকে স্বপ্ন দেখতে সাহস জোগাবে।
মতামত