ঢাকার মোহাম্মদপুরের শাহজাহান রোডের একটি আবাসিক ভবনের সপ্তম তলায় মা ও মেয়েকে গলা কেটে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার সকালে ঘটনাস্থল থেকে লায়লা আফরোজ এবং তার মেয়ে নাফিসা লাওয়াল বিনতে আজিজের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নাফিসা প্রিপারেটরি স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। নিহতের স্বামী এ জেড আজিজুল ইসলাম একটি স্কুলে শিক্ষকতা করেন।
পুলিশ জানায় সোমবার সকাল নয়টা থেকে সাড়ে দশটার মধ্যে হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়েছে। প্রতিদিনের মতো সকালে বাসা থেকে বের হন শিক্ষক আজিজুল। বেলা এগারটার দিকে বাসায় ফিরে কলিং বেল চাপলেও সাড়া না পেয়ে নিজের কাছে থাকা অতিরিক্ত চাবি দিয়ে ফ্ল্যাটে প্রবেশ করেন। ভেতরে ঢুকেই তিনি সর্বত্র রক্তাক্ত অবস্থায় মেয়েকে দেখতে পান। প্রতিবেশীদের সহায়তায় নাফিসাকে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এরপর ফ্ল্যাটের রান্নাঘর লাগোয়া করিডোরে লায়লা আফরোজের মরদেহ পাওয়া যায়।
ফ্ল্যাটের ড্রয়িং রুম থেকে রান্নাঘর পর্যন্ত রক্তের দাগ ছড়িয়ে ছিল। দরজার সিটকিনিসহ আশপাশেও রক্ত পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে মেয়েটি আহত অবস্থায় দরজা খুলতে চেষ্টা করেছিল। রান্নাঘর থেকেই হামলা শুরু হয়েছিল বলে প্রাথমিক ধারণা করছে পুলিশ।
হত্যাকাণ্ডের জন্য খণ্ডকালীন গৃহকর্মী আয়েশাকে সন্দেহ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। চার দিন আগে তাকে কাজের জন্য ওই বাসায় আনা হয়। সোমবার সকাল সাতটা তেরো মিনিটে সে বাসায় ঢোকে এবং নয়টা পঁয়তাল্লিশ মিনিটে বের হয়ে যায়। বের হওয়ার সময় স্কুল ড্রেস পরে কাঁধে ব্যাগ নিয়ে প্রহরীদের কাছে নিজেকে অতিথি বলে পরিচয় দেয়। বাসা থেকে বেশ কিছু মূল্যবান জিনিসপত্রও নিয়ে গেছে বলে জানায় পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে দুটি ধারালো চাকু উদ্ধার করা হয়েছে।
ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের উপ কমিশনার মো ইবনে মিজান বলেন প্রাথমিকভাবে আমরা নিশ্চিত হয়েছি গৃহকর্মীই হত্যাকাণ্ডটি ঘটিয়েছে। রান্নাঘর থেকে আক্রমণ শুরু হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। তাকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপ কমিশনার মোহাম্মদ রাকিব খান বলেন কাজে যোগ দেওয়ার চার দিনের মাথায় কেন আয়েশা হত্যাকাণ্ড ঘটাল তা তদন্তের বিষয়। তাকে ধরতে কয়েকটি টিম কাজ করছে।
এ ঘটনায় নিরাপত্তা প্রহরী খালেককে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। তিনিই চার দিন আগে আয়েশাকে ওই বাসায় পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন বলে জানা গেছে।
মতামত