মঙ্গলবার ০৬, অক্টোবর ২০২৬

০৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৫৫ এএম

পলাশবাড়ীর কর্মকাণ্ড নানা প্রশ্ন ও উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে: হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৯ জুন ২০২৬, ০৮:১০ এএম

1720

রংপুরের পলাশবাড়ী এলাকায় বৃহৎ আকারের হিন্দু ধর্মীয় স্থাপনা নির্মাণ, বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন এবং এসব কর্মসূচিতে বিদেশি কূটনৈতিক প্রতিনিধিদের ধারাবাহিক অংশগ্রহণ জনমনে স্বাভাবিকভাবেই নানা প্রশ্ন ও গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ।

গত সোমবার (৮ জুন) গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমীর আল্লামা শাহ মুহিববুল্লাহ বাবুনগরী ও মহাসচিব আল্লামা শায়েখ সাজিদুর রহমান এসব কথা বলেন

যৌথ বিবৃতিতে হেফাজতের শীর্ষ নেতৃদ্বয় বলেন, বাংলাদেশ একটি স্বাধীন, সার্বভৌম ও আত্মমর্যাদাশীল রাষ্ট্র। এ দেশের প্রতিটি নাগরিক সংবিধানপ্রদত্ত অধিকার অনুযায়ী নিজ নিজ ধর্ম স্বাধীনভাবে পালন করবেন—এটি আমাদের জাতীয় ঐক্য, সামাজিক সম্প্রীতি ও সাংবিধানিক ব্যবস্থার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। আমরা সব সময়ই সকল ধর্মাবলম্বীর ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকারের প্রতি পূর্ণ সম্মান প্রদর্শন করি।

তবে পলাশবাড়ীর মতো ভৌগোলিক ও কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি এলাকায় হঠাৎ করে এত বৃহৎ আকারের হিন্দু ধর্মীয় স্থাপনা নির্মাণ, এসব বিশাল প্রকল্পের অর্থায়নের মূল উৎস, এর সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা এবং বিদেশি কূটনৈতিক প্রতিনিধিদের ঘনঘন রহস্যময় সম্পৃক্ততার বিষয়গুলো যথাযথভাবে পর্যালোচনা করা রাষ্ট্রের প্রধান দায়িত্ব বলে আমরা মনে করি। এই বিষয়ে সাধারণ জনমনে উত্থাপিত প্রশ্নগুলোর একটি স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য উত্তর নিশ্চিত করা জরুরি হয়ে পড়েছে।

নেতৃদ্বয় কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, কোনো বিদেশি রাষ্ট্র বা তার প্রতিনিধির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ড যদি দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কোনো ধরনের প্রভাব বিস্তার করে, সামাজিক ভারসাম্য বিনষ্ট করে কিংবা ভবিষ্যতে কোনো ধরনের কৌশলগত জটিলতার আশঙ্কা সৃষ্টি করে, তবে তা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। জাতীয় স্বার্থ, দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো ধরনের উদাসীনতা বা আপস করার সুযোগ নেই।

হেফাজত নেতৃদ্বয় সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, প্রশাসন, গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়ে বলেন, বিষয়গুলো সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতা, স্বচ্ছতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে গভীরভাবে পর্যালোচনা করে জনগণের মধ্যকার উদ্বেগ দ্রুত দূর করতে হবে। একই সঙ্গে সতর্ক থাকতে হবে যেন এমন কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হয়, যাতে দেশের দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট হয় কিংবা কোনো ধর্মীয় সম্প্রদায়ের ন্যায়সঙ্গত অধিকার ক্ষুণ্ন হয়।

বিবৃতির শেষাংশে বলা হয়, জাতীয় স্বার্থ, সামাজিক স্থিতিশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ অক্ষুণ্ন রেখে দেশের সকল কার্যক্রম পরিচালিত হওয়া উচিত। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, আইনের শাসন এবং দেশের সার্বভৌম স্বার্থের প্রতি অটল অঙ্গীকারের মাধ্যমেই জাতীয় ঐক্য ও স্থিতিশীলতা আরও বেশি সুসংহত হবে।

Link copied!